পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল ১ ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেবা গ্রাম এলাকায়। শনিবার সকালে গ্রামের একটি পাট ক্ষেত থেকে ওই বধূর পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করেছে খরবা ফাঁড়ির পুলিশ। ঘটনায় খরবা ফাঁড়ির পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, মৃত ওই বধূর নাম মঞ্জুরা বিবি(৩৫), তার বাবার বাড়ি স্থানীয় বিলাইডাঙি গ্রামে। গত পনেরো থেকে ষোলো বছর আগে দেখাশোনা করেই তাঁর বিয়ে হয় ভেবা গ্রামের বাসিন্দা গলাম মোস্তাফার সঙ্গে। সে পেশায় ভিন রাজ্যের শ্রমিক। সম্প্রতি সে বাড়ি ফিরে এসেছে। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
মৃতার বাবার বাড়ির সহ গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সন্দেহের বশে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে, দেহ জ্বালিয়ে দিয়েছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় খরবা ফাঁড়ির পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাম থেকে আটক করা হয় মূল অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফাকে। তবে তার বাবা-মা গ্রাম ছেড়ে পালিয়া যায়। এখনও তাদের খোঁজ মেলেনি। পুলিশ মঞ্জুরার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যালে পাঠিয়েছে। ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে চাঁচল থানার পুলিশ।
এবিষয়ে মৃত গৃহবধূর বাবা মফিজুদ্দিনের অভিযোগ, ঐদিন রাতে গোলাম মোস্তফা ও মঞ্জুরার মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। শনিবার সকালে পুতুলের বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি পাট ক্ষেতে মঞ্জুরার আধপোড়া মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা। তারপর খরবা ফাঁড়ির পুলিশে খবর দেন। তাদের অভিযোগ, স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর প্রমাণ লুকানোর জন্য মঞ্জুরার মৃত দেহে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
এই ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মৃত গৃহবধূর মেয়ে জানায়, রাতে মা বাবার ঝগড়া হচ্ছিল। তারা জেগে উঠতেই বাবা তাদের ঘুমতে বলে। তাই তারা ভয়ে ঘুমিয়ে যায়। এরপর সকালে তারা মায়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/ei1OlqcCPLc