শুধু মাত্র অদম্য ইচ্ছা ও মনের জোর যদি থাকে তাহলে কোনো বাধাই যে বাধা নয় তা আর একবার প্রমান করে দেখিয়ে দিল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের রাঙ্গাপুকুর এলাকার প্রতিবন্দী শোভা মজুমদার। ৫ ই সেপ্টেম্বর শিক্ষিক দিবসের দিনে এক বড় উদাহরন শোভা। কারন ছোটবেলা থেকে শোভার মধ্যে ছিল অদম্য জেদ আর সেই জেদ ও মা সরস্বতীর আর্শিবাদে সে মানুষ গড়ার কারিগরের কাজ করছেন। কারন ছোটবেলা থেকেই শোভার দুই হাত অকেজ সে তার নিজের দুই পা দিয়ে পড়া শুনা চালিয়ে গেছে। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, চেষ্টা ও ইচ্ছাই মানুষের সব অসাধ্যকে বাস্তব রূপ দিতে পারে, সকল বাধা বিপত্তি প্রতিবন্ধকতা শত প্রতিকূলতার উরদ্ধে মানুষের ইচ্ছাশক্তি এসব প্রচালিত কথা গুলি বাস্তবে যে কতটা সত্যি তা প্রমান করে দেখিয়ে দিল রায়গঞ্জ রায়পুরের বাসিন্দা শোভা মজুমদার। দুই হাত অকেজ হওয়ায় সত্তেও শোভা থেমে থাকেনি। প্রতিবন্ধকতা সে জয় করছে পা দিয়ে। পা দিয়ে লেখাপড়া একের পড় এক গন্ডিপেরিয়ে প্রতিযোগিতা মুলক পরীক্ষায় সাফাল্য পেয়ে শোভা বর্তমানে রাঙ্গাপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
জন্ম লগ্ন থেকে হাত দুটি অকেজো রায়গঞ্জের রায়পুরের এক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে শোভার। তাদের পরিবারে দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতাকে তার জীবনের বাধা সৃষ্টি করতে না দিয়ে, পা দিয়ে কাগজ কলম তুলে নেই সে। শুধুমাত্র যোগ্যতার দিক দিয়ে নয় অন্যান্য বহু দিক দিয়ে অনেক স্বাভাবিক মানুষকে হার মানাতে পারবে সে। ২০০০ সালে রায়গঞ্জের মোহনবাটি পারব্বতী উচ্চবালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ২০০২ সালে দারিকা প্রসাদ উচ্চবালিকা বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক, সুরেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে পরবর্তীতে ইতিহাসে এম এ পাশ করে সে। এরপরে চাকরির জন্য নানা জায়গায় অবেদন করে অসফল হয়ে অবশেষে ২০০৯ সালে প্রথমিক শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের পরীক্ষায় অনন্য। সকল প্রতিযোগির সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে যগ্যতার। নিরীখে ২০১১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পায় শোভা তিনি এখোন তার পাড়ার রাঙ্গাপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তার বিদ্যালয়ে ৭ জন শিক্ষক ও ১০৭ জন ছাত্র ছাত্রী রয়েছে। সে অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের মতো প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসেন। অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাত্র ছাত্রীদের হাত দিয়ে ব্লাক বোর্ডে লিখিয়ে পড়াশুনা করান। কিন্তু শোভা তার উল্টোটা করান। হাতের বদলে পা দিয়ে ব্লাক বোর্ডে লিখে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনা শিক্ষাচ্ছে সোভা।
দিন মজুর বাবা সহ পরিবারের লোকজন তাদের মেয়ে শোভার এই সাফল্যে খুব খুশি। শোভা জানান, চাকরি পাওয়ার মধ্যে দিয়ে সে নতুন জীবন শুরু করল।
এদিকে রাঙ্গাপুকুর প্রথমিক বিদ্যালয়ের অন্যন্য শিক্ষকরাও শোভাকে সদর গ্রহন করেছেন এবং তারা জানান শোভার সাথে কাজ করে তারা ধন্য। ২০০৫ সালে তৎকালিন রাজ্যপাল বীরেন জেসার হাত থেকে রোল মডেল রুপে পুরুস্কার প্রাপ্ত শোভার শাররীক, আর্থিক, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয়ের এই নিদর্শনে উদবৃদ্ধ উত্তর দিনাজপুর জেলাবাসী। ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষিক দিবস। আর এই শিক্ষক দিবসে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষামহলে এই শিক্ষিকা একটি বড় উদাহরণ সকলের জন্য।