পাহাড়ে ঘনঘন অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে এবার ডুয়ার্স সহ মালদায় পর্যটকদের টানতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। শনিবার মালদা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে একটি বেসরকারি হোটেলে দু’দিন ব্যাপী আম উৎসবের উদ্বোধন করতে এই পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। সেই লক্ষ্যেই আম উৎসবের পরেই এদিন গৌড়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান এবং সাগরদিঘীতেও ছুটে যান পর্যটন মন্ত্রী। তবে খোলা মাঠে না করে শহর থেকে এতটা দূরে একটি হোটেলে হওয়া আম উৎসবে মানুষ কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিন শুরু হওয়া আম উৎসব এবং প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে মালদায় উৎপাদিত প্রায় ১০০ রকমের বিভিন্ন প্রজাতির আম এবং আমজাত দ্রব্য। পর্যটন মন্ত্রী বলেন, মালদা এবং আম সমার্থক। মালদার আমকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এছাড়াও মালদায় পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে গৌড়ে চৈতন্যদেবের পদধূলিধন্য রামকেলি অন্যদিকে আদিনা, পাণ্ডুয়া এবং জগজীবনপুরে বিভিন্ন ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান সব মিলিয়ে মালদায় পর্যটকদের টানার মত বিপুল উপাদান রয়েছে। গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিবহণ দপ্তর মাণিকচকে একটি লঞ্চের ব্যবস্থাও করেছে। ফলে সব মিলিয়ে মালদায় পর্যটকদের টানতে কোনো আসুবিধা হবে না বলে দাবী গৌতম দেবের।
তিনি বলেন, পাহাড়ে অস্থিরতার কারণে অনেক পর্যটক সেখানে যেতে চাইছেন না। কিন্তু তারা যেন বিকল্প হিসাবে ডুয়ার্স এবং মালদার মতো বিভিন্ন জায়গায় যেতে উৎসাহিত বোধ করেন সে ব্যাপারে আমাদের সরকার উদ্যোগী।
আম উৎসবের স্থান নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা হলেও এদিন জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্যের পাশেই দাঁড়ান পর্যটন মন্ত্রী। প্রথমে উৎসবের জায়গা নিয়ে তার কিছু বলার নেই বলে জানালেও পরে পর্যটন মন্ত্রী বলেন, মালদাকে আমরা ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করছি। উৎসব কোথায় হচ্ছে সেটা বড় কথা নয়।জেলাশাসক বলেন, আম উৎসবে যারা যোগদান করতে চান তাদের জন্য মালদা ষ্টেশনে গাড়ির ব্যবস্থা রেখেছে প্রশাসন।