উত্তরদিনাজপুর

নাট মন্দিরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক উন্নয়নের বিরুদ্ধে মানুষের বিক্ষোভ

উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের মহেন্দ্রগঞ্জের নাট মন্দিরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান করার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার মানুষজন। শনিবার দুপুরে কালিয়াগঞ্জের মহেন্দ্রগঞ্জ নাট মন্দির কমিটির ডাকা সাংবাদিক বৈঠকের সময় হঠাৎ করে বেশ কিছু উত্তেজিত মানুষ মন্দিরের অফিস গৃহে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। নাট মন্দির কমিটি যেভাবে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মন্দিরের উন্নয়নের কাজ শুরু করতে চলেছে তা তারা মানেনা। নাট মন্দির কমিটির এই উন্নয়নের কর্মকান্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পদত্যাগ করতে হবে কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে। এলাকার মানুষের বিক্ষোভ এতটাই মারমূখী হয়ে উঠেছিল একসময় মনে হয়েছিল বড়সড় অঘটন ঘটলেও ঘটতে পারে। ঘটনার সূত্রপাত হয় সেই সময়, যখন কালিয়াগঞ্জ বাসীর পক্ষ থেকে নাট মন্দির কমিটির কাছে একটি আবেদন পত্র দেওয়া হয়। যার মূল বিষয় ছিল নাট মন্দির কমিটি উন্নয়নের নামে যে সমস্ত পরিকল্পনা করে কাজ করতে যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠনের পরিপন্থী। অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ করতে হবে। কারন প্রতি বছর রথ যাত্রা ও মাঘ মাসের পূর্নিমা থেকে যে ৬৪ প্রহর নাম যঞ্জ অনুষ্ঠানে যে বড় মাপের মেলা বসে, এই মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হলে মেলার আয়তন ছোট হয়ে যাবে। যার ফলে নাট মন্দিরের ঐতিয্য হারিয়ে যাবে। তাই সাধারন মানুষ এদিন এই সিদ্ধান্তের বিরধিতা করেন। শেষমেশ রবিবার মন্দির কমেটি ও সাধারন মানুষ এক সাথে বসে আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধান করবে বলে জানা গেছে।

          কালিয়াগঞ্জ বাসি লিপি মহন্ত ও তারা চাঁদ পাল জানান, মন্দির এলাকা জুড়ে কোন মার্কেট তৈরি করতে দেওয়া হবে না। কারন এই নাট মন্দিরে বছরে দুই বার বড় মাপের ম্যালা বসে। যদি মার্কেট হয় তালে মন্দিরের ঐতিয্য হারিয়ে যাবে। তাই কোন মতে কালিয়াগঞ্জ বাসি মন্দিরের চার পাশ জুড়ে মার্কেট করতে দেওয়া হবে না।

          এবিষয়ে নাট মন্দির কমিটির সভাপতি সুনীল সাহা জানান,  সাংবাদিক স্মমেলন করে বলেন এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের সিদ্ধান্ত গত সাধারণ সভায় সর্ব সম্মতি ক্রমেই হয়েছিল। এরপর গত ২২সে এপ্রিল তাদের পরিচালন কমিটিতে পাকা পাকি ভাবে এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এত বড় নাট মন্দিরের প্রতিদিনের অন্ন ভোগ ও পুজার আয়োজন সহ মন্দিরের পরিষেবা চালাতে প্রচুর পরিমানে অর্থের প্রয়োজন যা সাধারন মানুষের দান দেওয়া অর্থে সম্ভব হয়ে উঠছে না। তাই কমেটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নাট মন্দির সীমা দিয়ে ৫০ টির মতো দোকান হবে। যা ব্যবসায়ীদের লিজে দেওয়া হবে। এরফলে মাসিক ভাড়া যা উঠবে তা দিয়ে মন্দিরের পরিষেবার কাজ করা হবে। প্রতি বছরে রথ যাত্রা ও মাঘ মাসের পূর্নিমা থেকে যে ৬৪ প্রহর নাম যঞ্জ অনুষ্ঠানে, যে বড় মাপের মেলা বসে তাতে কোন সমস্যা হবে না বলে তিনি মনে করেন।