ফিল্মি কায়দায় রক্তবিক্রি করতে আসা দুই যুবককে গ্রেফতার করল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। উঠে এল কলকাতার ব্লাডব্যাংকের শান্তনু চ্যাটার্জীর নাম। এই ঘটনার জেরে রায়গঞ্জ শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানাযায়, অভিযোগের ভিত্তিতে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ রিতিমতো ফাঁদ পেতে রক্তবিক্রি করতে আসা দুই যুবককে হাতে নাতে গ্রেফতার করে । পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত দুই যুবকের নাম সইদুর রহমান ও আজিজুর রহমান। তাদের বাড়ি মালদার যদুপুর এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা মোটা অংকের বিনিময়ে এই কারবার চালিয়ে আসছে বলে অভি্যোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে এই চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করার জন্য রায়গঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য মৃনাল কান্তি সিনহা ফেসবুকে বি নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন বলে একটি ভুয়ো পোষ্ট করেন। এরপরেই সইদুর রহমান নামে ওই যুবক মৃনালবাবুকে ফোন করে রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়ার পাশাপাশি সাত হাজার টাকা দাবী করেন। মৃনালবাবুর কথামতো বুধবার আইসপ্যাক নিয়ে রায়গঞ্জ স্টেট গ্যারেজের সামনে হাজির হয় সইদুর ও তার এক সহযোগী। আগে থেকেই সেখানে চলে আসেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা ঘিরে ফেলে এলাকা। এরপর রক্তের দাম নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে দরদাম শুরু করে দুই যুবক। শেষপর্যন্ত এক ইউনিট রক্তের জন্য রফা হয় বাইশশো টাকায়। এই টাকা হাতে নেওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন পুলিশ কর্মীরা। এরপর তাদের নিয়ে আসা হয় রায়গঞ্জ থানায়।
সইদুর রহমান বলেন,"কয়েক মাস ধরে সে এই ব্যবসা করছে। গ্রুপ অনুযায়ী এক ইউনিট রক্ত বিক্রি হয় ২ থেকে ১০ হাজার টাকায়।
কলকাতার একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের কর্মী সন্তু বিশ্বাস বাড়তি অর্থের বিনিময়ে আমাদের রক্তের যোগান দিয়ে থাকে। আমরা এজেন্ট হিসাবে কমিশন
পাই"।
অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন,"দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রির অভিযোগ পাচ্ছিলাম। তাদের
হাতেনাতে ধরার জন্য পুলিশ-সাংবাদিকদের নিয়ে এই প্ল্যান করা হয়েছিল। জেলাজুড়ে যে রক্তের চোরাকারবার চলছে তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া'"। এদিন রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/z64Kmf8yj4k