মালদা

বিয়ে মানেনি মেয়ের পরিবার, আর পরিবারের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এক সাথে জাম গাছে ফাঁসি দিল গাজোলের কদুবাড়ি এলাকার অশোক ও ডলি

দুই বছরের প্রেমে শেষ হয়ে গেল দুই দুটি জলজ্যান্ত প্রান। গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হল এক সঙ্গে ছেলে ও মেয়ের মৃতদেহ। ঘটনাটি ঘটেছে গাজোলের কদুবাড়ির চাকনগর এলাকায়।

জানা গেছে, গাজোলের কদুবাড়ির চাকনগর এলাকার বাসিন্দা অশোক রাও (২২) ও ওই গ্রামেরই বাসিন্দা ডলি হেমরমের (১৭) মধ্যে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বছর ২২শের অশোক রাও ভিন রাজ্যে কাজ করত মেয়ে ডলি হেমরম পড়াশোনা করত গাজোলের একটি স্কুলে। এই বছর মাধ্যমিকও দিয়েছে ডলি। তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি মেয়ের পরিবার। এবং মেয়ের পরিবার মেনে না নেওয়ায় অশোক ও ডলি দুজনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। বাড়ি থেকে পালানোর পর থেকে ছেলে ও মেয়ের পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়।

দুই বাড়ি থেকেই ফোন যেতে শুরু করে অশোকের মোবাইলে এবং বার বার করে ফোন করে বাড়িতে ফেরার কথা বলতে থাকে দুই পরিবারের লোকজন। বাড়ির লোকেদের কথা ফেলতে না পেরে ও বিশ্বাস করে ১০ দিন আগে বাড়ি ফেরে অশোক ও ডলি।গ্রামের বাড়িতে ফিরে এলে অশোক ও ডলিকে আলাদা করে রাখে দুই পরিবার। ছেলের পরিবারের তরফ থেকে মেয়ের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে মেয়ের বাড়ি ওই ছেলের সাথে বিয়ে দিতে  রাজি নয় জানিয়ে দেয়।  তাতে অশান্তি চরমে ওঠে দুই পরিবারের মধ্যে। আর এই অশান্তি সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দুরে জাম গাছে অশোক ও ডলি এক সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর শুক্রবার সকালে অশোক আর ডলির ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পায় গ্রামের লোকজন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গাজোলের কদুবাড়ি অঞ্চলের চাকনগর এলাকায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়।