হার্টের রোগে আক্রান্ত মেয়ের প্রাণ ফিরে পেল দিন মজুর পরিবার শিশু সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে। এক সময়ে অর্থের অভাবে নিজের এক মাত্র মেয়েকে হারেতে বসেছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের পুর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্কুল পড়ার বাসিন্দা গোবিন্দ দত্ত। পেশায় তিনি কাঠ মিস্ত্রী। তার মেয়ে পিউ দত্তের যখন ৯ মাস বয়স ছিল তখন থেকে সে প্রায় সময় শারিরীক অসুস্থ্যতার জন্য ভুক্ত। চিকিৎসা করার পড়ে ধরা পড়ে তার হার্টে সমস্যা রয়েছে। মেয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে বাবার মাথায় হাত। সেই সময়ে তার মেয়ে পিউ ছোট থাকার কারনে তার অপারেশন করা হয়নি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু হয়। সে অন্যান মেয়েদের মতো খেলাধূলা থেকে শুরু করে সাধারন জীবন যাপন করতে পারত না। পড়ে বয়স বাড়লে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তার অপারেশনের জন্য লক্ষাধিক টাকা প্রয়োজন আছে বলে তারা জানতে পারে। কিন্তু একজন দিন মজুর রাজমিস্ত্রীর পক্ষে এত টাকা যোগার করা সম্ভব নয়। সে এক প্রকার ভেবেই নিয়েছিলেন তার মেয়ে আর বাচাতে পাড়বেন না। কিন্তু কথায় আছে যার কেহ নাই তার আছে ঈশ্বর, কথিত কথা তা বাস্তবে পরিণত হল।
সে কোন কারন বসতো পেপার পড়ে যানতে পারে সরকারের তরফ থেকে গরীব মানষের চিকিৎসার জন্য "শিশু সাথী" প্রকল্প চালু করেছে। তার মনে আশা জাগে তার মেয়েও বাচতে পারবে এই প্রকল্পের মাধ্যেমে। সে সেই সময় উত্তর দিনাজপুর জেলার মূখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সাথে দেখা করেন। এবং তার মেয়ের সম্বন্ধে সব কিছু জানান। সেই সময় তার মেয়ে পিউয়ের পরিক্ষা নিরিক্ষা করার পরে ২০১৫ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর কোলকাতার রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর হাসপাতালে শিশু সাথী প্রকল্পের আওতায় বিনা মূলে তার প্রথম অপারেশন সম্পন্য করা হয়। অপারেশনের পরে পিঊ এখন অনেকটা সুস্থ্য হয়ে উঠেছে। এখন সে অষ্টম শ্রেনীতে পড়া শুনা করছে। ২০১৭ সালে তার দ্বিতীয় অপারেশন হবে, অপারেশন হয়ে গেলে পিউ অন্য চারটা মেয়ের মতো সাধারন জীবন জাপন করবে।
পিউয়ের বাবা গোবিন্দ দত্ত জানান, তার মেয়ের ছোট বেলা থেকে তার হার্টের সমস্যায় ভুগছে। অপারেশন একবার হয়ে গিয়েছে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর হাসপাতালে ২০১৫ সালে শিশু সাথী প্রকল্পের আওতায় বিনামূলে।এবং ২০১৭ সালের তার মেয়ের দ্বিতীয় দফায় অপারেশন হবে। তার মেয়েকে সুস্থ্য করতে ৫ লক্ষ টাকা লাগতো কিন্তু তার মেয়েকে স্বাস্থ্য দপ্তরের শিশু সাথী প্রকল্পের আওতায় বিনা মূলে অপারেশন করানো হচ্ছে। তিনি খুব খুশি। কারন তার পক্ষে এতটাকা জোগার করা সম্ভব নয়। তার মতো অনেক দুস্থ্য পরিবার আছে যারা অর্থের অভাবে তাদের শিশিদের চিকিৎসা করাতে পারে না। দ্বিতীয় বাড়ের অপারেশন হয়ে গেলে তার মেয়ে অন্যান মেয়েদের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।
অপরদিকে পিউয়ের মা চম্পা দত্ত জানা, তার মেয়ের ছোট বেলা থেকেই হার্টের অসুবিধা। তারা গরীব তাদের কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। তারা যানতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে শিশু সাথী প্রকল্পের আওতায় তার মেয়ের চিকিৎসা হতে পারে। সেই মতে তার মেয়ের শিশু সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে তার মেয়ের একটি অপারেশন হয়ে গিয়েছে।আর আগামী মাসে তার মেয়ের দ্বিতীয় অপারেশন হবে। এর পরে তার মেয়ে একে বারে সুস্থ্য হয়ে যাবে। আগামীতে যাতে কোন মায়ের কোল খালি না হয়। কারন সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে সেই সম্পর্কে মানুষকে একটু জেনে রাখা দরকার। তাহলেই হয়তো অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
অন্যদিকে জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা জানান, ২০১৩ সাল থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলায় শিশু সাথী প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আগেও অনেক শিশুদের চিকিৎসা করানো হয়েছে বিনা পয়সায়। শূন্য থেকে আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা এই সরকারি সহযোগিতা পেয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন এখন পর্যন্ত তার ২ হাজার ৭৪ জনের অপারেশন করিয়েছেন এবং তারা প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন। যারা এই সমস্ত সমস্যায় ভুক্তভুগি তারা অবশই এসে এখানে জানালে। হাসপাতাল থেকে তাদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।