প্রসব যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে প্রসূতি। দীর্ঘ সাত-আট ঘন্টা ধরে দেখা মেলেনি কোনো চিকিৎসকের। রাত ৮টার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাউন্ডে আসলে তার উপর চড়াও হয়ে মারধর ভাঙচুর চালায় প্রসূতির পরিবারের লোকজন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে। দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন রায়গঞ্জ থানার আইসি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘন্টা খানেক তান্ডব চালানোর পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ইটাহারের বৈদরা গ্রামের শুকতারা বেগম নামে এক প্রসূতি প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে দুপুরে ভর্তি হন রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে। অভিযোগ, দীর্ঘ সাত-আট ঘন্টা ধরে ওই প্রসূতিকে কোনও চিকিৎসক দেখতে না আসায় ক্ষোভে ফেটে পরেন প্রসূতির পরিবারের লোকজন। রাত আটটা নাগাদ প্রসূতি বিভাগে রাউন্ডে আসেন প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সঞ্জয় সরকার। তাকে দেখেই ঘিরে ধরেন ক্ষুদ্ধ পরিবারের লোকজন। প্রথমে বচসা, পরে চিকিৎসকের উপর চড়াও হয় প্রসূতির আত্মীয়স্বজন। চিকিৎসককে ব্যাপক মারধর ও হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় ওই প্রসূতির পরিবার। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয় রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন রায়গঞ্জ থানার আইসি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী।
প্রসূতি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সঞ্জয় সরকার বলেন, " আমি সময় অনুযায়ী রাউন্ডে আসি, সে সময় ওই প্রসূতী ও তার পরিবারের লোকজন আমার উপর চড়াও হয়ে আমাকে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি হাসপাতালে তান্ডব চালিয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর চালায়। পুরো বিষয়টা আমি হাসপাতাল সুপারকে জানিয়েছি "। রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ গৌতম মন্ডল জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে।