দক্ষিনদিনাজপুর

পারিবারিক অশান্তির জেরে বিষ খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালেই পরীক্ষা দিচ্ছে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

পারিবারিক অশান্তির জেরে বিষ খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। যার কারনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বেডে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। 

        জানা গেছে, এই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর নাম সিমন্তীকা ওরাও। সে বালুরঘাট ব্লকের কাঁশিয়াডাঙ্গা হাই স্কুলের ছাত্রী। তার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল বালুরঘাট গার্লস হাই স্কুল। ছাত্রীর বাবা পেশায় দিনমজুর। সংসারে অভাব অনটন থাকলেও পড়াশুনা করে বড় হওয়ায় স্বপ্ন রয়েছে তার। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও ভালোই নিয়েছিল সে। এদিকে সংসারে অভাব অনটন থাকায় বাবা মায়ের মধ্যে প্রায়ই বচসা লেগেই থাকত। গত ১১ তারিখ অর্থাৎ রবিবার ফের বাবা মায়ের মধ্যে বচসা বাঁধে। সামনে পরীক্ষা তার মধ্যে রোজ রোজ এমন অশান্তি আর ভাল লাগত না ওই পরীক্ষার্থীর। বাবা মা-এর বচসা সহ্য করতে না পেরে রবিবার কীটনাশক খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করে সে। বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন। বর্তমানে হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছে তার। তবে আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ রয়েছে সে। একটু সুস্থ হতেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চায় বলে পরিবারকে জানায়। হাসপাতাল ও পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় স্কুলে। জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে অবশেষে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসেছে ঐ ছাত্রী। হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষা দেয় সে। শিক্ষা দপ্তর থেকে পরীক্ষা দেওয়ার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

        এবিষয়ে পরীক্ষার্থীর বাবা জীবন ওড়াও জানান, পারিবারিক অশান্তির কারণেই বিষ খেয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ থাকায় জেলা হাসপাতালে বসে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। 

        এবিষয়ে পরীক্ষার্থীর আত্মীয় সন্ধ্যা ওড়াও জানিয়েছেন, পারিবারিক অশান্তির জেরে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে তাদের আসা মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিমন্তীকা ভালো ফল করবে।  

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে 
https://www.youtube.com/embed/0WE3ONhRfzE