উত্তরদিনাজপুর

গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরীর আধুনিক প্রশিক্ষন দেওয়া শুরু হল কালিয়াগঞ্জে

গ্রামে মহিলাদের নিয়ে স্বনির্ভর করার জন্য হস্ত শিল্প সামগ্রী তৈরীর আধুনিক প্রশিক্ষন দেওয়ার কাজ শুরু করল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতি। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের আর্থিক সহায়তায় ও পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন নিগমের সহযোগিতায় এই আধুনিক মানের প্রশিক্ষন হয়েছে কালিয়াগঞ্জ ব্লকের অনন্তপুর গ্রামপঞ্চায়েতের মুদাফত গ্রামে ও শেরগ্রামের একটি বি এড কলেজে। কারন সংসার সুখি হয় রমণীর গুনে। বাড়ির রমণী যদি সংসার খরচে হাত যোগায় তাহলে সেই সংসারে কষ্ট বলে কিছুই থাকে না। উত্তর দিনাজপুর জেলায় প্রচুর পরিমানে পাট উৎপন্ন হয়। আর সেই পাট দিয়ে এত দিনে এই সব গ্রামের মহিলা শিল্পীরা মূলত ধোকরা বানাতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হওয়ায়  শিল্পীদেরও উৎসাহ বেড়েছে পাট দিয়ে নতুন নতুন কিছু হস্ত শিল্প তৈরি করায়। আর সেই প্রয়োজনের কথা মাথাই রেখে এই দুটি গ্রামে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষন। প্রশিক্ষক , প্রশিক্ষিতা দিয়ে উন্নত মানের প্রশিক্ষন শিবির। এই দুটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কোথাও বা মাঠে বসে পাট দিয়ে আধুনিক মানের পাটের হস্ত শিল্প তৈরী করতে আবার কোথাও বা দেখা যায় একটি ঘরে ট্রেলার মেশিন এর সাহায্যে পাটের বিভিন্ন জিনিস তৈরী করতে। দুটি জায়াগায় গ্রামের হস্ত শিল্পীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের সাফ কথা সাবেকি আমলের ধোকরা বানাতে যে পরিমানের প্ররিশ্রম হয় সেই তুলনায় তারা বাজারে দাম পান না কিছু,পাট দিয়ে যে হস্ত শিল্প গুলি তারা শিখছেন তার বাজারে দারুন চাহিদা। খাটনিও কম। তাই প্রশিক্ষন পেয়ে তারা খুব খুশী। 

        অন্যদিকে যারা প্রশিক্ষক তাদের মধ্যে অন্যতম ববিতা ব্যানার্জি জানান, উত্তর দিনাজপুর জেলায় যেহেতু পাট খুব বেশি উৎপন্ন হয় তাই পাটজাত শিল্পের অনেক সম্ভাবনা আছে। তাই সেদিকে তাকিয়ে গ্রামের মহিলাদের উন্নত মানের প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা আগামীতে এগুলি শিখে নিজে স্ববলম্বী হয়ে দারাতে পারেন। জানা যায় জেলা শিল্প কেন্দ্রের মাধ্যেমে এই জেলায় মোট ৭ টি ক্লাস্টার প্রকল্প তৈরী হচ্ছে তার মধ্যে এটি একটি  বাকি ৫ টা প্রকল্প হবে ইটাহার, রায়গঞ্জ, করনদিঘী,ইসলামপুরে, জানা যায় কালিয়াগঞ্জে এই প্রশিক্ষন শিবির মোট ৪৮ জন মহিলা পাট দিয়ে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরীর আধুনিক প্রশিক্ষন নেওয়ার কাজ শুরু করে। 

        এদিকে কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই বৈশ্য জানান,কেন্দ্র রাজ্য সরকারের উদ্দ্যেগে কালিয়াগঞ্জে এই ধরনের আধুনিক প্রশিক্ষন শুরু হওয়ায় প্রচুর গ্রামে হত দরিদ্র মহিলারা উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে একটি আধুনিক প্রশিক্ষন কে কেন্দ্র করে গ্রামের হস্ত শিল্পীদের মধ্যে ব্যাপক পরিমানে উৎসাহ বেড়েছে তা ব্যাপারে নিঃসেন্দহে বলা যেতে পারে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন লিংকে 
https://www.youtube.com/embed/Yl8u1_zPyRk