কাঁটাতার নয়, এতদিন বি.এস.এফ ছিল গলার কাঁটা। মালদা শহর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ইংরেজবাজার থানার মহুদিপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার কাঁটাতারের ওপারের ভারতীয় ভূখন্ডের বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের। সূর্য ডুবলেই সীমান্ত এলাকা দিয়েই চলাচল নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ফলে অসুস্থ রোগীদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আনতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যেত গ্রামবাসীদের। দিনের পর দিন অনেক মুর্মুশ রোগী কার্যত বিনা চিকিৎসায় সেখানে প্রাণ হারাতো। গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সমস্যা সমাধানের। স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদে বার বার এই নিয়ে দরবার করেছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। অবশেষে সুরাহা করলো সীমান্তে পাহাড়ার দ্বায়িত্বে থাকা বি.এস.এফ। গ্রামবাসীদের হাতে বি.এস.এফের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হল অত্যাধুনিক এয়ারকন্ডিশন অ্যাম্বুলেন্স। যাতে মুর্মশ রোগীদের হাসপাতালোর পৌঁছানোর সমস্ত রকম সুবিধা পান গ্রামবাসীরা। এই অ্যাম্বুলেন্সটি থাকবে স্থানীয় বি.এস.এফ ক্যাম্পে। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তারা বিনা খরচে তাদের পরিবারের লোককে হাসপাতালে পৌঁছে দেবে বি.এস.এফ। বি.এস.এফের এই উদ্যোগে খুশী গ্রামবাসী থেকে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। এর ফলে উপকৃত হবে সীমান্ত লাগোয়া মহুদিপুর, পিয়াসবাড়ি, নাদিলখানা, নবাদা, শশানি, চড়িঅনন্তপুর, গোপালনগর সহ সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকহাজার মানুষ।
এবিষয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী স্বাধীন কুমার ঘোষ ও অমল কুমার দাস জানান, অসুস্থ মানুষদের, বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে রাতে অন্ধকারে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার যে সমস্যা ছিল, তার সমাধানে বি এস এফ-এর পক্ষ থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দেওয়া হল। এই সহায়তা প্রদানে তাদের সুবিধা হবে। এতে তারা খুশি প্রকাশ করেছেন।
এবিষয়ে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষিকা চন্দনা রায় অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতের জন্য এই অ্যাম্বুলেন্স প্রদানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এবিষয়ে মালদা সেক্টারের ডি.আই.জি অমর কুমার এক্কা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তের গ্রামবাসীদের দাবী ছিল একটি অ্যাম্বুলেন্সের। বিষয়টি তারা উপলব্ধি করেছেন। ফলে তাদের পক্ষ থেকে এই অ্যাম্বুলেন্সটি দেওয়া হল। এই বিষয়ে জেলাপ্রশাসন ও রাজ্যপ্রসাশন সহযোগীতা করেছে। আগামী দিনে এই রকম উদ্যোগ আরও নেওয়া হবে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/fw9gYv7KmxU