মালদা

বিএসএফের গুলিতে মৃত এক স্কুল ছাত্র, চাঞ্চল্য বৈষ্ণবনগর থানার সব্দলপুর এলাকায়

বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হল এক স্কুলছাত্রের। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে মালদার বৈষ্ণবনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সব্দলপুর এলাকায়। 

            মৃত ছাত্রের নাম আজিজুর রহমান ওরফে আইজল। বাড়ি সীমান্তবর্তী সব্দলপুর গ্রামে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, এদিন গভীর রাতে আজিজুলের মোবাইলে একটি ফোন আসে। সেই মতো সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘক্ষন বাড়িতে না ফেরায় সকাল বেলা বাড়ির লোকেরা তার খোঁজ খবর শুরু করে। জানা যায়, সীমান্তবর্তী কাটাতার এর কাছে পাগলা নদীর ঘাট থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আরও জানা যায়, মৃত আজিজুল স্থানীয় স্কুলের ক্লাস এইটে পড়তো। তবে এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এক ছাত্রের কাছে এত গভীর রাতে কে বা কারা ফোন করেছিল? সে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে দাঁড়িয়েছিল কেন? বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে বেশ কয়েকজন পাচারকারী মাদক পাচার করছিল। সেই সময় ওই এলাকায় বিএসএফ তাদের বাধা দিতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। যার কারনে পাল্টা গুলি চালায় বিএসএফ। এতেই তার মৃত্যু হয়। পাচারের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে ছাত্ররা। এর আগেও বেশ কিছু নাবালক এবং স্কুলছাত্রকে জালনোট, আফিম এবং মাদক পাচার করতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়তে দেখা যায়। এই ঘটনায় বৈষ্ণব নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিএসএফ। যদিও পাল্টা পরিবারের পক্ষ থেকেও বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ।

          যদিও এই বিষয়ে মৃত ওই কিশোরের কাকা নিসারাথ শেখ জানায়, রাতে ভাস্তার কাছে ফোন আসে। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনা। কিন্তু এদিন সকালে তার মৃত দেহ কাটাতারের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। তাই তাদের ধারনা ভাস্তাকে বিএসএফ-ই খুন করেছে। তাই তারা পুলিশকে এই ঘটনার পুর্ন তদন্ত করার জন্য লিখিত ভাবে জানিয়েছেন।

          এদিকে এই ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মৃত ওই কিশোরের বাবা বাধু শেখ জানায়, গরু নিয়ে গিয়েছিল, বর্ডার যেতে মানা করি, কিন্তু শোনেনি, মঙ্গলবার রাতে যায়। পরে শুনেছি তাকে বিএসএফ ধরে নিয়েছে। এদিন তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তবে তার ছেলে পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল বলে তিনি জানান।