মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এবার বদলাচ্ছে মালদা সংশোধনাগারের স্থান। দিনের পর দিন বাড়ছে অপরাধ ও অপরাধ প্রবণতার সংখ্যা। ফলে বাড়ছে অপরাধীর সংখ্যাও। তাই মালদা জেলা সংশোধনাগারের পরিষর কমে আসছে। বর্তমানে এই মালদা জেলা সংশোধনাগারে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন বিচারাধীন বন্দীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দিন দিন বেড়ে চলা বিচারাধীন বন্দীর ক্ষেত্রে ছোট হয়ে আসছে এই সংশোধনাগার। তাই প্রয়োজন হয়েছে নতুন সংশোধনাগারের। বর্তমানে মালদা জেলা সংশোধনাগার অবস্থিত ছয় একর জমির উপর। ইংরেজবাজার পুর এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডের মাধবনগরে রয়েছে এই সংশোধনাগার। ইতিহাসের পাতায় এই সংশোধনাগারের উল্লখ রয়েছে। স্বাধিনতার পূর্বে ব্রিটিশরা এই জেল খানা নির্মাণ করেন। বেশ কয়েকজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এই জেল খানায় বন্দী ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার পূর্ব ও পশ্চিম বঙ্গের সংগ্রামীদের প্রথমিক ভাবে এই জেল খানায় রাখতেন। এই সংশোধনাগারে ব্রিটিশ আমলের বেশ কিছু স্বাধীনতা সংগ্রামী ও স্বাধীনতার পরবর্তী কালে রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত কিছু বিশেষ ব্যাক্তিত্ব কিছু দিনের জন্য এই সংশোধনাগারের আবাসিক ছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই জেল খানাকে বহল রাখা হয়। এখনেই থাকেন বিচরাধীন বন্দীরা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে জনসংখ্যা বেড়েছে। বেড়ছে অপরাধের সংখ্যা। তার সাথে বেড়েছে মহিলা অপরাধীদের সংখ্যা। তাই এই জেল খানার জায়গা ক্রমশ অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। তাই প্রয়োজন হয়েছে নতুন সংশোধনাগারের। আর এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। মালদা থানার নারায়নপুরে ৩০ একর জমির উপর নতুন অত্যাধুনিক সংশোধনাগার নির্মাণের অনুমোদন ও পাওয়া গেছে। ইংরেজবাজার পৌরসভার উপ পুরপতিদুলাল সরকার জানান, কারা দপ্তরের ডি আই জি পরিদর্শন করেছেন জমিটি। সংশোধনাগারের নংশাও প্রায় শেষের দিকে। দ্রুত আরম্ভ হবে নির্মান কাজ। ডাঃ প্রদ্যুত ঘোষ বঙ্গ রত্ন শিক্ষাবিদ দাবী করেন বর্তমান সংশোধনাগারকে হেরিটেজ আখ্যা দিয়ে ইতিহাস চর্চার মিউজিয়াম করা হোক। শহরের মধ্যে এই সংশোধনাগার থাকায় প্রতিদিন বিচারাধীন বন্দীর ভ্যানের গতি থেমে যায় ফলে জান জটের সৃষ্টি হয় শহরে। শহর থেকে দূরে হলে শহর যানজট মুক্তের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হয়। শহরের নাগরীক ললিত চৌধুরী রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নজর সর্বক্ষেত্রে রয়েছে। এই নতুন সংশোধনাগারের রুপায়নের উদ্যোগ তা প্রমান করে।
মালদা