গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রারকে নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই অস্থায়ী গ্রুপ—ডি কর্মীকে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত দুই কর্মীর বিরুদ্ধে ইংলিশবাজার থানার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অন্যদিকে নিগৃহীত সহকারী রেজিস্ট্রার অচিন্ত্য বন্দোপাধ্যায় হঠাৎ করে পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ফেলায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অচিন্ত্যবাবুর পদত্যাগ পত্রে দাবি করেছেন তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারনে ওই পদে থাকতে চাননা। উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে তিনি সেটা জানিয়ে দিয়েছেন। মাত্র আট দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব নেন অচিন্ত্য বন্দোপাধ্যায়। এই কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলে তিনি পদ থেকে সরে যেতে চাওয়ায় ফের অস্বস্তি বেড়েছে কর্তৃপক্ষের। শুধু তা—ই নয়, নিগ্রহের জেরেই যে ক্ষোভে ও অপমানে তার এই সিদ্ধান্ত, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও কারও বুঝতে বাকি নেই। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় সোমবার নিজের দফতরেই নিগৃহীত হন সহকারী রেজিস্ট্রার অচিন্ত্য বন্দোপাধ্যায়।
অভিযোগ, ওই দিন চন্দন মন্ডল ও ইমদাদুল ইসলাম নামের দু’জন অস্থায়ী কর্মী সহকারী রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে কোনও একটি খরচের বিলে সই করতে বাধ্য করান। বিল খতিয়ে না দেখে সই করবেন না বলে অচিন্ত্যবাবু তাদেরকে জানিয়ে দেন। তখনই ওই দুই কর্মী তাকে দফতরেই ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ। সেদিন মৌখিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে এই ঘটনাটি জানিয়ে ক্ষোভে ও অপমানে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন সহকারী রেজিস্ট্রার অচিন্ত্য বন্দোপাধ্যায়। অভিযোগ পেয়ে তড়িঘড়ি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র। ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট তার কাছে পেশ হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েছে।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ওই দুই অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন আধিকারিক রাজীব পুতুতুন্ড। অভিযুক্তদেরকে ছয় মাসের জন্য কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত বলা দরকার , এই শিক্ষাঙ্গনে ইগোর সূত্রপাত ঘটে পাঁচ মাস আগেই । মালদহ কলেজে একই বেঞ্চে পাঁচজনকে ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে স্নাতক স্তরের পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক সনাতন দাসকে পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। তবে সাড়ে তিন মাস পর সনাতন দাসের ইস্তফা গৃহীত হয়। পরীক্ষা নিয়ামকের দায়িত্ব পান অধ্যাপক শামাপদ মন্ডল। সনাতনবাবুকে সরিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু আধিকারিক ও কর্মী। সনাতনবাবুকে ‘হেনস্থা’ করা হয়েছে বলে তাদের একাংশের অভিযোগ। সনাতনবাবুর ইস্তফা গৃহীত হওয়ার পরের দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ফেলেন অরিজিৎ দাস। তারপর সেই পদটি কিছু দিন ফাঁকা থাকে। কেউ যাতে সেই পদে বসতে রাজি হন, এমন অবস্থান নিয়ে গোপনে সক্রিয় ছিল একটি গোষ্ঠী বলে সূত্রের খবর। কিন্তু অচিন্ত্য বন্দোপাধ্যায় সরল ভাবে সহকারী রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব নিয়ে নেন। আর এতেই একটি গোষ্ঠীর কোপদৃষ্টিতে পড়েন তিনি। তাকেও নিগৃহীত হতে হল এই শিক্ষাঙ্গনেই। অচিন্ত্যবাবুর ‘ইস্তফা’ গৃহীত হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।