ভাগাড় কান্ডের জের এবার মালদা শহরের বুকে। মঙ্গলবার সারা দিন মালদা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তরাঁ গুলিতে পচা মাংসের খোঁজে অভিযানে নামলো ইংরেজ বাজার পৌরসভা।
জানা যায়, এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত মালদা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তরাঁয় চলে এই অভিযান। এদিন সকালে রথবাড়ি মোড়ে থাকা বেশ কিছু হোটেলে অভিযান চলে। সেই সমস্ত হোটেল থেকে উদ্ধার হয় ফ্রিজে থাকা জমানো মাছ, মাংস। যদিও তা কতদিনের এবং তার গুনগত মান যাচাই করতে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। কিন্তু এদিনের সবচেয়ে বড় অভিযানটি চলে মাধবনগর এলাকায় থাকা এক বেসরকারি ক্যাটেরার পরিষেবার গোডাউন সহ এক নামী রেস্তরাঁয়। এই দুই জায়গা থেকে উদ্ধার হয় ডীপ ফ্রিজে জমিয়ে রাখা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি মাংস, প্রচুর চিংড়ি মাছ, প্রচুর মাছ সহ বহু খাদ্য। যেগুলি পরে ইংরেজ বাজার থানার পুলিশ সহ জেলা খাদ্য দপ্তরের আধিকারীকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে খবর। যদিও এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ইংরেজ বাজার শহরে।
এবিষয়ে এই অভিযানে যুক্ত থাকা এক পৌরসভার কর্মী বলেন, তারা সারা দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান। সেই মতো বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তরাঁ থেকে মাছ মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু দুটি জায়গা থেকে তারা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ফ্রিজে জমিয়ে রাখা মাংস মাছ উদ্ধার করেছেন।
এবিষয়ে এক আধিকারিক জানান, উদ্ধার হওয়া মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এমন অভিযান আগামী দিনেও ফুড অফিসারদের নিয়ে চলতে থাকবে বলে তিনি জানান।
তবে এদিনের এই অভিযান সম্পর্কে বলতে গিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নিহার রঞ্জন ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মতো তারা এদিন যে মাংস মানুষকে খাওয়ানোর কথা তা মানা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে অভিযানে নামেন। সেই মতো এদিন পৌরসভার অধীনে যে সব রেস্তরাঁ আছে তা যাচাই করতে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারীকরা নমুনা সংগ্রহে নামে। তবে দেখা যাচ্ছে, বহু দিনের জমে থাকা মাংস মানুষকে পরিবেষণ করা হচ্ছে।, সেই মতো নামী রেস্তরাঁ সহ এক বেসরকারি ক্যাটেরার পরিষেবার গোডাউন থেকে প্রচুর মাংস উদ্ধার করা হয়। নমুনা যাচাই করতে পাঠানোর পাশাপাশি পৌরসভার এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে আগামীতে এলাকার প্রতিটি হোটেলে লাগাতার এই অভিযান চলবে বলে তিনি দাবী করেন।
এদিনের এই অভিযানে সংগৃহীত মাংস ও মাছ নিতে এসে এক পুলিশ আধিকারীক জানান, তিনি খবর পেয়ে এসেছেন, এবং উদ্ধার হওয়া মাছ মাংস থানায় নিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এদিনের এই অভিযানে খুশি নন, এমন এক কাউন্সিলার বরুণ সাহার প্রশ্ন, মাছ কোনদিন ধরে নাকি ? আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি ওই মাছ খাবার যোগ্য, দেখে কেউ বলতে পারে খারাপ না ভালো, পৌরসভা এভাবে ইলিশ মাছ ধরতে পারেনা। অন্যায় করেছে ইংরেজ বাজার পৌরসভা বলে তিনি দাবী করেন।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/phnPva8LW4U